Browse by category

4 of 4 Blogpost(s)

রিসালাত ও বিস্ময়কর আল-ক...

আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতাএ যদি তোমাদের সন্দেহ থাকে,তাহলে তার অনুরূপ একটি সুরা নিয়ে এসো এবং মহান আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে ডেকে আনো যদি তোমরা সত্যবাদি হও। তারপর তোমরা যদি তা করতে না পারো এবং তোমরা তা কখনোই করতে পারবেনা। তাহলে তোমরা সে আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর-যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে কাফির দের জন্যে।” (সুরা আল-বাক্বারা ২; ২৩-২৪) দারসের বিষয়বস্তুঃ গত দারসে মহান আল্লাহ্‌র উলুহিয়্যাত এর বলিষ্ঠ প্রমান পেশ করার পর চলতি দারসে উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)-এর প্রতি প্রেরিত রিসালাত এর অকাট্য প্রমান ও দাবী সন্নিবেশিত হয়েছে। সাথে সাথে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) যে আল্লাহ্‌র বান্দাহ-রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতে তার কোন দখল নেই সে কথা অতি চমৎকার ভাবে বিধৃত হয়েছে। উপরস্তু মহাগ্রন্থ আলকুরআন মহান আল্লাহ্‌র কালাম ও শ্রেষ্ঠ মুজিযাহ, তা দৃঢ় ভাবে ব্যক্ত হয়েছে। আল কুরআন অকাট্য মুজিযাহঃ ‘উমার, ইবনু মাস’ঊদ ও ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রমুখাত বাচনিক উক্তি উল্লেখপূর্বক ইমাম ইবনু জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন ,শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সকলের প্রতি এই মর্মে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, আল-কুরআন মহান আল্লাহ্‌র ক্বালাম হওয়ার ব্যপারে কারো সন্দেহ হলে সে যেন এর অনুরূপ তৈরি করে দেখায়। মহান আল্লাহ একাধিক আয়াতে উপরোক্ত চ্যালেঞ্জ ঘোষনা করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- (.............................................................................................।) “তারা কি বলে, তুমি কুরআন তৈরি করেছ? বলঃ তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সুরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও! যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক”।(সুরা হুদ ১১ঃ১৩) মহান আল্লাহ আরো বলেন (..........................................) “বলুন ! যদি মানব ও জিন এ কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়, তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবেনা।” (সুরা ইসরা ১৭;১৮) মুজাহিদ ও ক্বাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এভাবে মহান আল্লাহ তার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)- এর মাক্কী জিবনে সন্দেহ বাদী দের প্রতি চ্যালেঞ্জ করেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম)- এর হিজরতের পর (--------------------------) আয়াতখানা নাযিল করে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রাখেন। এভাবে সন্দেহবাদীরা মহান আল্লাহ্‌র চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে অপারগ হয় এবং আলকুরআন আল্লাহ্‌র ক্বালাম ও শ্রেষ্ঠ মুজিযাহ একথা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়. (আল মিসবাহুল মুনীর ফী তাফসীর ইবনু কাসীর-দারুসসালাম ,রিয়াদ ৪৩)   চলবে.........।

মুত্তাক্বীদের সংক্ষিপ্ত...

সরল অনুবাদঃ পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নামে। “আলিফ লা-ম মীম। ঐ কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। মুত্তাক্বী দের জন্যে পথ প্রদর্শন কারী। যারা ‘ইলমুল গায়ীব বা অদৃশ্য বিষয়ে ঈমান আনে, সালাত ক্বায়িম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে। আর তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের উপর নাযিল করা হয়েছে, তারা তাতে ঈমান আনে ও আখিরেতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করে। তারা তাদের প্রভুর হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারাই সফলকাম। (সুরা আল-বাক্বারা, ২;১-৫) দারসের বিষয়বস্তুঃ এ দারসে সুরা আল-বাক্বারার প্রথম ৫টি আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনের বিশেষত্ব এই যে, এটি কোথাও ‘আম’ বা সাধারন এবং কোথাও ‘খাস’ বা বিশেষ হিদায়াতের কথা বলা হয়েছে। এ জন্যই হিদায়াতের সাথে মুত্তাক্বীদেরকে বিশেষ ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এই কথা স্বতঃসিদ্ধ  যে, হিদায়াতের কোন শ্রেনি-সীমা নেই। আলোচ্য আয়াতসমূহে মুত্তাক্বী বান্দাদের কতিপয় বিশেষ গুনাবলীর কথা উল্লেখিত হয়েছে। আল-কুরআনের বাহকদের এ সকল গুনে গুণান্বিত হওয়া জরুরী। তবেই উভয় জগতের সফলতা অর্জন করা সম্ভব। সূরা আল-বাক্বারা’র ফজিলতঃ আল-কুরআনের বহু বিধি-বিধান সম্বলিত সুরা হচ্ছে সুরা আল-বাক্বারাহ। এ সূরাটির ফজিলত ও মাহাত্ম্য অনেক। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিও না। যে ঘরে সুরা আল-বাক্বারা পাঠ করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করেনা।” (সহিহ মুসলিম-হাঃ৭৮০) অপর বর্ণনায় এসেছে- “তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো, কারন তা ক্বিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্যে সুপারিশ করবে। দু’টি জ্যোতির্ময় সুরা আল-বাক্বারা ও আলে ‘ইমরান পড়তে থাকো, এ সূরা দুটি ক্বিয়ামতে দু’টো সামিয়ানা বা মেঘ্স্বরূপ বা পাখির বিশাল দু’টো ঝাঁক হিসেবে আসবে এবং তার পাঠকের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ “সুরা আল-বাক্বারা পড়তে থাকো, কেননা এর পাঠে বরকত রয়েছে এবং তা বর্জন করা আফসোসের কারন। আর জাদুর শক্তি এর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা “ (সহিহ মুসলিম-হা ৮০৪) প্রসঙ্গিক ব্যাখ্যাঃ মহান আল্লাহর বাণী-ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ   সাধারনতঃ (ذَلِكَ)  কোন দূরবর্তী  বস্তুকে ইঙ্গিত করতে ব্যবহৃত হয়। আর (الْكِتَابُ )দ্বারা কুরআনুল কারীমকে  বুঝানো হয়েছে এবং (رَيْبَ ) অর্থ সন্দেহ সংশয়।  আয়াতের অর্থ হচ্ছে- এটি এমন এক কিতাব যাতে সন্দেহ-সংশয়ের  কোন অবকাশ নেই। এটি বাহ্যতঃ দূরবর্তী ইঙ্গিতসূচক শব্দ নয়। কারন এই ইঙ্গিত কোরআনের প্রতি করা হয়েছে, যা মানুশের সামনেই রয়েছে।  কিন্তু দূরবর্তী ইঙ্গিতসূচক শব্দ ব্যবহার করে এ কথাই বুঝানো হয়েছে যে, সুরাতুল ফাতিহাতে যে সিরাতে মুস্তাক্বীম এর প্রার্থনা করা হয়েছিলো- সমগ্র কুরআন সে প্রার্থনারই প্রত্যুত্তর। এটি সিরাতে মুস্তাক্বীম –এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাও বটে । (মাওলানা মহিউদ্দিন খান অনূদিত “পবিত্র কূরআনুল কারীম”- বাদশা ফাহাদ কুরআন মুদ্রন প্রকল্প,  মদীনা,১২। ) মহান আল্লাহর বানীঃ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ । মুত্বাকীদের জন্য হিদায়াত বলতে গোমরাহী হতে মুক্তির পথ নির্দেশনা। এটি এমন এক কিতাব যা দ্বারা মু’মিন বান্দা হিদায়াত গ্রহন করবে এবং কাফীর এর উপর হুজ্জত বা দলীল ক্বায়িম হবে। (ইমাম ইবনু জারীর ‘তাফসীর আত ত্বাবারী-১/২৩০।) সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এখানে মুত্তাক্বী দ্বারা শিরক, কবিরা গুনাহ ও শরীয়াত গর্হিত কার্যাদি মুক্ত মু’মীন বান্দাকে বুঝিয়েছেন। ( আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন আল-বাগাভীর “তাফসির আল-বাগাভী”-১/৮১) ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এখানে মুত্তাক্বী দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সকল ব্যাক্তি , যারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হতে বিরত থাকে এবং তাদের উপর যা ফরজ করা হয়েছে তা তারা আদায় করে। (হাফিয ইবনু কাসীর”তাফসিরুল কুরআনুল কারীম”-১/১৬৩।) মহান আল্লাহর বানীঃ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ এ আয়াতে মুত্তাক্বীদের বিশেষ গুনাবলীসমুহের একটি গুনের কথা উল্লেখিত হয়েছে। আর তা হলো –অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করা । সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ আল্লাহর ক্বসমঃ গায়িব বা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপনকারীর ন্যায় ই উত্তম ঈমান আনতে পারেনি। (হাফিয ইবনু কাসীর”তাফসিরুল কুরআনুল কারীম”-১/১৬৬, ইমাম শাওকানী “ফাতহুল ক্বাদীর-১/৪১) আর গায়িব তথা অদৃশ্যে বিশ্বাসের মূলনীতি হচ্ছে-মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সকল বিষয়ে ঈমান আনতে বলেছেন, সেগুলোর প্রতি নিঃসংকোচে ঈমান আনা;কোনরুপ কল্পনা বা অপব্যাখ্যায় প্রবৃত্ত না হওয়া। গায়িব এর প্রতি ঈমানের প্রথম ও প্রধান রূকন হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং অন্যতম হলো আখিরাত ও তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। মুত্তাক্বী দের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-সলাত ক্বায়িম করা। আর ইক্বামাতে সলাত বলতে ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাতসমুহ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত পন্থায় যথা নিয়মে আদায় করা। প্রত্যাশিত ইক্বামাতে সালাত শুধু বাহ্যিক সালাত আদায় করা নয়; বরং সালাতের রূকন, ওয়াজিব সহ বাহ্যিক ইন্দ্রিয় ও আত্মিক নিবিষ্টতা নিয়ে যে সালাত সম্পাদন করা হয় তাকে ইক্বমাতে সালাত বলা হয়। (শাইখ ‘আব্দুর রহমান আস সা’আদি ‘তাইসিরুল কারীমিন রহমান”-৪০) মহান আল্লাহ্‌র বানীঃ (-----------------------------) মুত্তাক্বী দের তৃতীয় গুন হচ্ছে- মহান আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন,তা হতে ব্যয় করা।আর আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় বলতে এখানে ফরয যাকাত,ওয়াজিব সাদাক্বাহ ও নফল  দান খয়রাত প্রভৃতি উদ্দেশ্য। (মাওলানা মহিউদ্দিন খান অনূদিত “পবিত্র কুরআনুল কারীম”-বাদশা ফাহাদ কুরআন মুদ্রন প্রকল্প, মদীনা, ১৪) আলোচ্য আয়াতে “আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে” দ্বারা একথা বুঝান হয়েছে যে, তোমাদের করায়ত্ব সহায় –সম্পত্তি তোমাদের শক্তি ও যোগ্যতা বলে অর্জিত নয়; বরং এসব তোমাদের রবের তরফ থেকে রিযক মাত্র কাজেই তারই পথে ব্যয় করার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করো। (শাইখ ‘আব্দুর রহমান আস সা’আদি ‘তাইসিরুল কারীমিন রহমান”-৪০) আমরা একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাব যে, আল কুরআনের অধিকাংশ জায়গায় সালাত এর সাথে ইনফাক বা যাকাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে।সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র হক্ব আদায় হয় এবং যাকাতের মাধ্যমে বান্দাদের পারস্পরিক হক আদায় হয়।ফলে মানুষ ইহকালীন শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে এবং পরকালের সাফল্য পেয়ে ধন্য হয়। মহান আল্লাহ বাণী (--------------------------------) মুত্তাক্বী দের চতুর্থ গুন ও বৈশিষ্ট হচ্ছে- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এর প্রতি নাযিল হওয়া আল কুরআন ও সুন্নাহ’র প্রতি ঈমান আনা। অত্র আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে সাহাবী ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ (হে নাবী!) আপনি আল্লাহ্‌র তরফ থেকে যা নিয়ে এসেছেন এবং পূর্ববর্তী রাসূল গন যা নিয়ে এসেছেন, তা তারা সত্য বলে বিশ্বাস করে। তারা নবী ও রাসুলদের প্রতি বিশ্বাসে কোন পার্থক্য করেনা এবং নাযিল কৃত কোন কিছুই অস্বীকার করেনা। (হাফিয ইবনু কাসীর”তাফসিরুল কুরআনুল কারীম”-১/১৭০।)   বাকি অংশ নেই  

অন্যায় হত্যাযজ্ঞ মানব স...

সরল অনুবাদঃ “এ কারনে আমি বানী ইসরাঈলদের প্রতি (অবধারিত বিধানরূপে) লিখে দিয়েছি যে, কোন প্রানের বদলে প্রান ছাড়া কিংবা নিছক ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যে কাউকে হত্যা করে সে যেন সমস্ত মানুষকেই হত্যা করে। আর যে ব্যক্তি কারো জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। নিশ্চয়ই তাদের কাছে আমার রাসূলেরা নির্দেশনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এর পরেও তাদের অধিকাংশ লোক যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে। ” (সুরা আল-মায়িদাহ ৫;৩২) আয়াতের বিষয় বস্তঃ মানুশ একটি জাতিসত্বার নাম। এর হিফাযত বা সংরক্ষণ অবশ্যক। অনর্থক ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি বড় গর্হিত কাজ। এটি পুরো মানব সভ্যতা ধ্বংসের নামান্তর । আলোচ্য আয়াতে সে কথাই বিধৃত হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটঃ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানুষ হত্যার ন্যায় জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে আদম (‘আলাইহিস সালাম) এর পুত্র ক্বাবিল । সে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তার ভাই হাবিল কে হত্যা করে। এ সময় অত্যাচারের শিকার হাবিল মহান আল্লাহর ভয় ও হত্যার অশুভ পরিণাম নিয়ে ভীত ছিল। কিন্তু ক্বাবিল তার ক্রোধ নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি। ফলে সে অন্যায় করে বসে এবং আপন ভ্রাতা হাবিল কে নির্মম ভাবে  হত্যা করে। অতঃপর সে তার নিহত ভাই কে কোথায় কিভাবে দাফন করবে, তার দিশা না পেয়ে ভীষন লজ্জায় পড়ে। এ লজ্জার কারন ভাই হত্যার জন্যে অনুশোচনা নয়; বরং দাফনের বিধান না জানার বিড়ম্বনা মাত্র। সে কারনে ক্বাবিল ক্ষমা পায়নি। আর তার এ ঘৃণ্য অপরাধ তাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে ক্ষতিগ্রস্থ করে। (ডঃ ওয়াহবা আয-যুহায়লী ‘আত তাফসীর আল-মুনীর’ দারুল ফিকহ-দামেস্ক-৩/৫০৯-৫১০, মাওলানা মহিউদ্দিন খান অনূদিত ‘পবিত্র কুরআনুল কারীম’-বাদশা ফাহাদ কুরআন মুদ্রন প্রকল্প- মাদিনাহ/৩২৪।) প্রাসঙ্গিক জ্ঞাতব্যঃ আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে যে, একজন মানুশ হত্যা যেন গোটা মানব সভ্যতাকে হত্যা করার সমান। এ বিধান জারির সাথে মহান আল্লাহ বাণী ইসরাঈল কে বিশেষায়িত করেছেন। যদিও ঘটনাটি অনেক পূর্বেকার। প্রশ্ন হল- এখানে কেন বানী ইসরাঈল কে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হলো? এর উত্তরে তাফসীর বিশারদগণ বলেছেনঃ বাণী ইসরাঈল এর পূর্বেকার জাতির উপরও মানুষ হত্যা হারাম ছিল। কিন্তু সে আদেশ ছিল অলিখিত। পরবর্তীতে বানী ইসরাঈল মানুষ হত্যার সীমালংঘন করার কারণে তাদের উপর প্রথম লিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ কারনেই তাদের নাম উল্লেখিত হয়েছে।(ইমাম  ইবনু কাসীর ‘তাফসীরুল কুরআনিল কারীম’-৩/৯৩, ইমাম ইবনু জারীর ‘তাফসীর আত তাবারী-১০/২৩১, ডঃ ওয়াহবা আয-যুহায়লী ‘আত তাফসীর আল-মুনীর’ দারুল ফিকহ-দামেস্ক-৩/৫১০) বিধানটির কার্যকারিতা প্রসঙ্গঃ এটি বাণী ইসরাঈলের প্রতি লিখিত বিধান হলেও মহান আল্লাহ তা আমাদের জন্যে প্রেরিত তার সর্বশেষ ও চুরান্ত আসমানী গ্রন্থ আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন। আর ইসলামের নীতি হলো- পূর্ববর্তী বিধান যা কুরআন ও সুন্নাহ সমরথন করে, তা এ উম্মাতের জন্যে বলবত থাকে। কাজেই এটি যুগ পরম্পরায় চলে আসা মহান আল্লাহর অমোঘ বিধান। মানুষ বিচ্ছিন্ন কেউ নয়; বরং এটি একটি জাতিসত্ত্বা বা সভ্যতার নাম। তাই এই মানব সভ্যতা সংরক্ষনের মহান লক্ষে মানুষ হত্যাকে আল্লাহ তা’আলা কুফরি , গর্হিত ও সভ্যতার ধ্বংস বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইসলামে মানুষ হত্যাঃ ইসলামে মানুষ হত্যা কুফরী। প্রিয় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেনঃ “কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেক্বী কাজ এবং তাকে হত্যা করা কুফরী। ” (সহীহুল বুখারী-হা,৪৮, সহিহ মুসলিম-হা ১১৬।) মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ যে প্রান হত্যা হারাম করেছেন, তা হত্যা করোনা। তবে হকভাবে।” (সুরা বাণী ইসরাঈল১৭;১৭) অর্থাৎ- কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ নির্দেশিত বিধানে হত্যাযোগ্য হলে কেবল রাষ্ট্র বা সরকার তা কার্যকর করবে; কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবেনা। মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মানুষ হত্যার পরিনাম জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা , নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতিশয় মেহেরবান। আর যে ব্যাক্তি সীমালঙ্ঘন বা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরুপ (হত্যা) করবে, তাকে দ্রুত (জাহান্নামের) আগুনে পৌঁছে দেয়া হবে।”(সুরা আন নিসা ৪,২৯ ও ৩০) প্রিয় নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “প্রত্যেক মুসলিমের উপর অপর মুসলিম এর রক্ত, সম্পদ, সম্মান হারাম।” (সহিহ মুসলিম হা,২৫৬৪, সুনান আবূ দাঊদ হা,৪৮৮২, সুনান ইবনু মাজাহ হা,৩৯৩৩।) উপরোক্ত দলিল দ্বারা একথা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত যে, মানুষ হত্যা মহা পাপ। আর সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করাও তেমনি হারাম ও গর্হিত কাজ। ইসলাম সর্বতঃভাবে এটা নিষেধ করেছে। শুধু নিষেধই করেনি; বরং এ ধরনের হত্যাকারীকে সমাজচ্যুত বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রিয় নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র ঊত্তোলন করবে , সে আমার উম্মাতভুক্ত নয়।“ (সহীহুল বুখারী হা,৬৮৭৪ ও সহিহ মুসলিম হা,৯৮) পরিশেষে বলা যায়-প্রতিহিংসা পরায়নতা থেকে হত্যার ন্যায় গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। আর ইসলাম পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ কে খুবই নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমাদেরকে এহেন কাজ হতে সতর্ক ও সাবধান করেছে। দারসের শিক্ষা সমুহঃ ০১।হিংসা বিদ্বেষ হত্যার ন্যায় গুরুতর অপরাধ ঘটাতে উৎসাহ যোগায়। যেমনটি করেছিলো আদম (আলাইহিস সালাম) পুত্র ক্বাবিল। আর এটি ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম মানব হত্যা। ০২।কোন সীমালঙ্ঘনকারীর পরিণতি কখনোও ভালো হয়না। যেমন বাণী ইসরাঈল ও তার দোসররা। বরতমানেও যারা পৃথিবীতে অনর্থক বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলছে। ০৩। একজন মানুষ একটি সভ্যতার প্রতিবিম্ব। তাই একজন মানুষ হত্যা মানে পুরো মানব সভ্যতাকে হত্যা করা। ০৪। নিরাপদ ও সান্ত সমাজে ফাসাদ সৃষ্টিকারী ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজচ্যুত। সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারায়। ০৫। অপরের জান ও মালের নিরাপত্তা দেউয়া প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব। নিজে নিরাপদ থাকি অপরকে নিরাপদ থাকতে দেই।   ​--শাইখ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন 

মুনাফিক্বদের সংক্ষিপ্ত ...

মহান আল্লাহর বানীঃ “আর মানুশের মাঝে এমন কিছু লোক আছে, যারা বলে আমরা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান এনেছি; অথচ তারা আদৌ ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ ও ঈমানদারদেরকে ধোঁকা দেয়। তারাতো নিজেদের ছাড়া আন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না; অথচ তারা বুঝে না। তাদের অন্তরসমূহ ব্যাধিগ্রস্ত, আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের মিথ্যাচারের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যখন তাদেরকে বলা হয় –তোমরা দুনিয়ায় ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরাতো কেবল মীমাংসাকারী। আর যখন তাদেরকে বলা হয়- অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো। তখন তারা বলে, আমরা কি বোকা লোকদের মতো ঈমান আনব। মনে রেখ, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা; কিন্তু তারা বুঝে না। আর যখন তারা ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়ত্বানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি- আমরাতো (মুসলিমদের সাথে) উপহাস করি মাত্র। আল্লাহ-ই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে তারা নিজেদের সীমালঙ্ঘনের মাঝে হয়রান পেরেশান হয়। আর তারা সে সমস্ত লোক, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছ। বস্তুতঃ তারা তাদের এই ব্যবসায় লাভবান হয়নি। আর তারা হিদায়াত প্রাপ্তও নয়” (আল-কুরআনঃ সূরা আল-বাক্বারাহ ৮-১৬) । দারসের বিষয়বস্তুঃ আলোচ্য দারসে উল্লেখিত আয়াতসমুহে মুনাফিক্বদের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। তারা দুনিয়াদার, প্রতারক ও একান্ত স্বার্থপর। অন্তরে কুফরী লালন করে কেবল পার্থিব স্বার্থ হাসিলের কুমতলবে বাহ্যিক আমলকারী মাত্র। ্মহান আল্লাহ ও তার রাসূল এবং ইমানদারদের নিয়ে বিদ্রুপকারী, মুনাফিক্বরা প্রকৃত আত্মপ্রবঞ্চণার গ্লানিতে নিমজ্জিত। এহেন সুবিধা ভোগি দ্বৈত নীতির মানুষরা মুলত নিজেদের ক্ষতি সাধন করে। দুনিয়া ও আখিরাত উভয় কুল হারায়। এতদসত্বেও নিজেদেরকে খুব বুদ্ধিমান মনে করে। এসব কথা উল্লেখিত আয়াতসমুহে আলোচনা করা হয়েছে। মুনাফ্বিক কারা? মুনাফ্বিক  কর্তৃ বাচ্য বিশেষ্য। অর্থঃ  কপটবিশ্বাসী । এটির ধাতুগত অর্থ হচ্ছে- দু’ মুখ বিশিষ্ট সুড়ঙ্গ পথ, যার একদিক দিয়ে প্রবেশ করে, অপরদিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া যায়। সেই  অর্থে মুনাফিক্ব বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যার ভিতর ও বাহির এক নয়। শরী’আতের পরিভাষায় ইসলাম ও বাহ্যিক কল্যান প্রকাশ করা এবং কুফরি ও অনিষ্টচিন্তা লুক্বায়িত রাখাকে নেফাক্বী বা কপটতা বলে। আর যে ব্যক্তিএরূপ ‘আক্বিদাহ পোষণ করে তাকে মুনাফিক্ব বলা হয় (ডঃ সালেহ আল-ফাওযান ‘আক্বীদাতুত তাওহীদ’-১০৫ পৃষ্ঠা) । মুনাফিক্বদের পরিনতিঃ মুনাফিক্বরা কাফিরের চেয়েও গুরুতর পাপী। কেননা এরা প্রতারক। এদের কপটতা কাফিরকেও হার মানায়। সেজন্য মহান আল্লাহ এদেরকে মিথ্যাবাদী বলে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন (সূরা আল- মুনাফিক্বুন ১)। এদের পরিণতি কাফিরদের চেয়েও ভয়াবহ। এরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন গভীরে পতিত হবে (সূরা আন নিসা ১৪৫)। প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যাঃ মহান আল্লাহর বাণী – “মুনাফিক্বদের ঈমানের দাবী নিছক প্রতারনা। তারা মহান আল্লাহকে ধোঁকা দেয়” এ কথার অর্থঃ তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লা-হু “আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর অনুসারী মুসলিমদের সাথে ধোঁকাবাজি করে। বস্তুতঃ আল্লাহকে কেউ ধোঁকা দিতে পারেনা” (সুনান আবূ মুহাম্মাদ আল –হুসাইন আল-বাগাভী ‘তাফসীর আল- বাগাভী-ইহইয়াউত তুরাছ- ১/৮৭, তাফসীর আল-কুরতুবী-১/১৯৫) । মহান আল্লাহর বানীঃ “অসুস্থতা দেহে মনে হয়ে থাকে”। এখানে মহান আল্লাহ মুনাফিক্বদের মনের ব্যাধির কথা উল্লেখ করেছেন । তাদের মনের ব্যাধি হল সন্দেহ । বিশুদ্ধ মতে তাদের অন্তর্নিহিত কুফরীকে বুঝানো হয়েছে। আর মুনাফিক্বরা সবসময় এই ভয়ে থাকে যে, না জানি কখন কোথায় তাদের  প্রকৃতস্বরূপ  প্রকাশ হয়ে পড়ে । দিবা-রাত্রি এ চিন্তায় ব্যস্ত থাকাটাও একটা বড় মানসিক রোগ। আর মহান আল্লাহ আয়াত সমুহ পর পর নাযিল করে ঈমানের প্রতি আহ্বান জানানোতে তারা আরো বেশী উৎকণ্ঠা বোধ করে এবং কুফরীর পর কুফরী বাড়তে থাকে (ইমাম ইবনু জারীর আত তারাবী ‘জামিউল বায়ান’ ১/২৭৯) । কারো মতে ‘আল্লাহ তাদের রোগ আরো বাড়িয়ে দেন’- এর অর্থ এই যে, তারা ইসলাম ও মুসলিম দের উন্নতি দেখে জ্বলে-পুড়ে ছাই হতে থাকে। মহান আল্লাহর বানীঃ “মুনাফিক্ব রা ফিৎনা-ফাসাদ কে মীমাংসা এবং নিজেদেরকে মীমাংসাকারী মনে করে”। আল- কুরআন পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছে যে, এটি মৌলিক দাবীর উপর নির্ভরশীল নয়; বরং ব্যাপারটি ব্যক্তি বা ব্যক্তি  সমষ্টির আচরনের উপর একান্ত নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ যদি ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টির কারন হয়, তাহলে এসব কাজ যারা করবে তাদেরকে প্রকৃত ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারি বলতে হবে। মুনাফিক্ব রা তাদের দ্বিমুখী নীতি ও কর্ম দ্বারা সমাজে ফাসাদ সৃষ্টি করে চলেছে। যদিও তা তারা স্বীকার করতে নারাজ। মহান আল্লাহর বানীঃ “.......” এ আয়াতে মুনাফিক্বদের আরো একটি ধৃষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হলো ঈমানদার সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)- দেরকে নির্বোধ ও বোকা বলা। মুলতঃ সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)- দের ঈমানই খাঁটি ঈমান। মহান আল্লাহর কাছে অনুরূপ ঈমানই গ্রহণযোগ্য। কাজেই কোন ব্যক্তির নিজেকে প্রকৃত ঈমানদার দাবী করতে হলে সাহাবা দের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মতো ঈমান আনতে হবে;অন্যথায় ঈমানের দাবী যথার্থ হবেনা। সে যুগের মুনাফিক্বরা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)- দেরকে বোকা বলে আখ্যায়িত করেছিল। বস্তুতঃ এ ধরনের গোমরাহী সকল যুগেই চলে আসছে। যারা ভ্রষ্ট কে পথ দেখায় , তাদের ভাগ্যে সাধারনতঃ বোকা, অশিক্ষিত, মূর্খ প্রভৃতি আখ্যা জুটে থাকে। কিন্তু আল কোরআন পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছে- “ঐ সকল অলীক বিশ্বাসীরাই প্রকৃত বোকা। কেননা এমন উজ্জ্বল ও প্রকাশ্য নিদরশনাবলী থাকা সত্বেও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করার মত জ্ঞ্যান-বুদ্ধি তাদের নেই” ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তাদেরকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথীরা যেভাবে ঈমান এণেছে, ঠিক সেভাবে ঈমান আনতে আহ্বান করা হলে তারা সাহাবী দেরকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নির্বোধ আখ্যা দিয়ে ঈমান গ্রহন হতে বিরত থাকে। মহান আল্লাহ তাদেরকেই প্রকৃত নির্বোধ, অজ্ঞ ও জাহেল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা যে নিরেট বোকা একথা বুঝার জ্ঞ্যান ও তাদের নেই (ইমাম শাওকানী ‘ফাতহুল ক্বাদীর’-১/৫১) । মহান আল্লাহর বানীঃ “মুনাফিক্বদের আরো একটি চরিত্র হল- তারা দ্বি-মুখী, স্বার্থপর, ও সুবিধাভোগী” । মুসলিমদের সাথে দেখা হলে ঈমানের ছলনা করে।আর কাফির- মুশরিক নেতাদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে মনের আসল কথা বলে। নেতা দের বুঝাতে চায়- আরে আমরাতো তোমাদের খাঁটি লোক। প্রকাশ্যে ঈমানের কথা বলে কেবল মুসলিম তথা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)- দেরকে নিয়ে বিদ্রুপ করি মাত্র। আর এটাই হচ্ছে মুনাফিক্বদের দ্বি-মুখী নীতির স্বরূপ (শাইখ আবদুর রহমান আস সা’আদী ‘তাইসীরুল কারীমিন রহমান-৪৩) । মহান আল্লাহর বানীঃ  “.......” সুদ্দী সাহাবী ইবনু আব্বাস, ইবনু মাস’ঊদ সহ কয়েকজন সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)- থেকে বর্ণনা করেনঃ “মুনাফিক্বরা হিদায়াতের পরিবর্তে গোমরাহী কে গ্রহন করেছে। অপর বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)- গোমরাহী দ্বারা কুফরীকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ তারা ঈমানের বদলে কুফরী খরিদ করেছে (হাফিয ইবনু কাসীর ‘তাফসিরুল কুরআনিল কারীম’-১/৮৫) । মুনাফিক্বদের ব্যবসা নিষ্ফল। তারা তারা মুল্যবান  সম্পদ ঈমান- এর বিনিময়ে নিকৃষ্ট বস্তু কুফরীকে গ্রহন করল। ফলে তারা এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারলোনা; বরং প্রকাশ্য ক্ষতিতে নিপতিত হলো। আর আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত হারানোই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ততা (আত তাফসীর আল- মুয়াসসার-১/৪) । দারসের শিক্ষাসমূহঃ ০১। মৌখিক স্বীকৃতির নাম কেবল ঈমান নয়; অন্তরে বিস্বাস এবং কর্ম দ্বারা এটার দাবী বাস্তবায়নই ঈমান। আর তা সঠিক আমলের দ্বারা বৃদ্ধি পায় এবং ‘আমল না করলে কমে যায়। ০২। মহান আল্লাহ, তার রাসুল (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও কুরআনের সাথে প্রতারণা করে কেউ সফলকাম হতে পারেনা;তারা নিজেরাই নিজেদের পাপের কারনে লাঞ্ছনার স্বীকার হয়। ০৩। মুনাফিক্বরা কুফরীর পর কুফরী করে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়। তার এটিই হচ্ছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা অভিশাপ। ০৪।যমীনে সৃষ্ট ফাসাদের মধ্যে প্রধান ও মারাত্মক ফাসাদ হল শিরক অ কুফরী। মুনাফিক্বরা এ দু’অপরাধে লিপ্ত থেকেও তারা মীমাংসার মিথ্যে আস্ফালন করে। আর সকল যুগেই মুনাফিক্বরা একই চরিত্রের অধিকারী হয়। ০৫। মহানবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবিগনের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)- অনুসৃত পথ অবলম্বন ছাড়া কখনোও প্রকৃত হিদায়াত লাভ করা যাবেনা। কোন ‘আমল করার পূর্বে সালাফে সালেহীন –এর পথ অনুসন্ধান করা আবশ্যক।নতুবা আখিরাতের ব্যবসায় সফল হওয়া যাবেনা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে খাঁটি ইমানদার হওয়ার তাওফিক্ব দিন এবং মুনাফিক্বদের অনিশ্তভতে হিফাযত করুন-আমীন।